সব খবর সবার আগে
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

মহাসড়কের পাশে হাট: ঈদে যানজটের সঙ্গে বাড়বে ভোগান্তি

ঈদের আগে আরও পরিধি বাড়ছে মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা হাটবাজারের। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত মহাসড়কের ধারে কমপক্ষে ৭০টি হাটবাজারের কারণে এখনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এমনিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনের কাজ চলছে। তার ওপর ঈদ মৌসুমকে সামনে রেখে মহাসড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে হাটবাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। সে কারণে ঈদযাত্রায় যানজটসহ বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কাও।

0 13

মহাসড়ক আইন অনুযায়ী, মহাসড়কের ওপর বা নিয়ন্ত্রণ রেখার মধ্যে হাটবাজারসহ কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। কিন্তু বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে মহাসড়কের ওপর এবং নিয়ন্ত্রণ রেখার মধ্যে আকার বাড়ছে হাটবাজারগুলোর। মহাসড়ক থেকে ২০০-৩০০ ফুট দূরে বসানোর শর্তে হাটবাজার ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু শর্ত ভঙ্গ করে এসব হাটবাজার ক্রমেই মহাসড়কের কাছে চলে আসছে। আবার কোথাও কোথাও হাটবাজারগুলো মহাসড়ক থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্বে স্থাপনের জন্য ইজারা নিলেও সেগুলো বসানো হচ্ছে মহাসড়কের সংরক্ষণ রেখার মধ্যে। বিশেষ করে ঈদকে ঘিরে নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বসায় ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে মহাসড়ক।

হাইওয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, তেঁতুলিয়া থেকে রংপুর হয়ে বগুড়া পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে কমপক্ষে ৩০টি স্থানে প্রতিনিয়ত বসছে হাট ও বাজার। এ ছাড়া বগুড়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু এবং বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে রাজশাহী পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে ৪০টির বেশি স্থানে হাটবাজার বসছে। হাইওয়ের পাশে গড়ে ওঠা রংপুর অঞ্চলের এসব হাটবাজারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য যানজটের এলাকা দশমাইল, সৈয়দপুর বাইপাস, বীরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, পাগলাপীর, মডার্ন মোড়, দমদমা, বৈরাগীগঞ্জ, বিশমাইল, কলাবাগান, জামতলা, খেজমতপুর, ধাপের হাট, শঠিবাড়ি বাজার, বড় দরগা বাজার, পলাশবাড়ী, কোমরপুর, বালুয়া, গোবিন্দগঞ্জ, চহিরা, হারিকুটুম প্রমুখ।

এ ছাড়া হাইওয়ের কোনো নিয়মনীতি না মেনে বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন ছোট ও বড় হাটবাজার বসিয়ে সড়কের জায়গা দখল করে রাখায় যানজট প্রকট হচ্ছে। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটছে হতাহতের ঘটনা। এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিসহ পথে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো যানবাহনকে।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলাধীন শঠিবাড়ীতে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের ধার ঘেঁষে সপ্তাহে দু’দিন হাট বসে। সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন পণ্যসহ লোকজনের ভিড়ে মহাসড়কে চলাচলকারী বাসগুলো শঠিবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ঠিকমতো যাত্রী ওঠানামা করাতে পারছে না। এতে হাটে আসা লোকজনের সঙ্গে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বাসে ওঠানামা করা যাত্রীরা। এ ভোগান্তির সঙ্গে বাড়ছে ঝুঁকিও।

হাট ইজারাদার সূত্র জানায়, মহাসড়কের দুই পাশে শঠিবাড়ী হাটের আয়তন প্রায় ১৪ বর্গ একর। এখানে দোকান রয়েছে প্রায় দুই হাজার। সপ্তাহের রবি ও বৃহস্পতিবার হাট বসে। প্রতি বছর প্রায় ১০ কোটি টাকা ডাক হয় এই শঠিবাড়ী হাট। গত রোববার শঠিবাড়ী হাটে গিয়ে দেখা যায়, ছয় লেন মহাসড়কের কাজ চলমান থাকায় হাট বসে একটু দূরে। তবে ঈদ ঘিরে হাটের দিন ফের সড়কের ধার ঘেঁষে কেনাবেচা চলছে। এতে বিভিন্ন পণ্য সংরক্ষণ ও বৃহৎ এই হাটে আসা লোকজনের ভিড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বাসচালক আব্দুল হামিদ ও লোকমান হোসেন বলেন, মহাসড়কে হাট বসলে গাড়ি চালানো খুব কষ্ট হয়। গাড়ি যেখানে থামানোর কথা, সেখানে রাখা যায় না। প্রধান সড়কের ওপরই গাড়ি দাঁড় করাতে হয়। মানুষ এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাতায়াত করে। বাসের গতি কমালেও ঝুঁকি থাকে।

হাটে থাকা একটি দোকানের মালিক বাচ্চু মিয়া বলেন, প্রায়ই পুলিশ ও জনপ্রশাসনের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়। তারপর সড়ক থেকে হাট তুলেও দেওয়া হয়। ১০ দিন যেতে না যেতে দেখা যায় আবার বসছে।

ইজারাদার যেহেতু হাটের ওই জায়গায় বসা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টোল নেন, কাজেই এর জন্য ইজারাদারেরও দায় আছে। হাটের ইজারাদার আবু নুর প্রধান বলেন, হাটে পর্যাপ্ত জায়গা না হওয়ায় হাটের দিন কয়েকজন ব্যবসায়ী মহাসড়কে গাড়ি দাঁড় করানোর জায়গায় বসে ব্যবসা করতেন। কিন্তু বর্তমানে মহাসড়কের কাজ চলমান থাকায় সড়কের ধারে আর হাট নেই। তবে ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হাট কিছুটা সম্প্রসারিত হচ্ছে। এমন অবস্থা মহাসড়কের ধার ঘেঁষে সবগুলো হাটবাজার এলাকায়।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, মহাসড়ক থেকে ২০০-৩০০ ফুট দূরে বসানোর শর্তে হাটবাজার ইজারা দেওয়া হয়। শঠিবাড়ী হাট মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি কেউ অবৈধভাবে সড়কে ব্যবসা করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রংপুরের বিভিন্ন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাসের একাধিক চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়ক এমনিতে ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। এ অবস্থায় মহাসড়কের পাশে হাটবাজার বসার কারণে সৃষ্ট যানজটে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, ফলে দ্রুত গাড়ি চালাতে হয়। আর যে কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে।

বড়দরগাহ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোলায়মান শেঠ বলেন, হাইওয়ে পুলিশ যতদূর সম্ভব মহাসড়কে যানজট নিরসনের চেষ্টা করছে। মহাসড়কের পাশে হাটবাজার এলাকাগুলোতে বেশি যানজট হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ খবর এবং আপডেটের জন্য আমাদের সাবস্ক্রাইব করুন। আপনি যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারবেন।

Loading...

আমরা কুকি ব্যবহার করি যাতে অনলাইনে আপনার বিচরণ স্বচ্ছন্দ হয়। সবগুলো কুকি ব্যবহারের জন্য আপনি সম্মতি দিচ্ছেন কিনা জানান। হ্যাঁ, আমি সম্মতি দিচ্ছি। বিস্তারিত