সব খবর সবার আগে
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

ঢাকা থেকে বেরোনোর পথে ভোগান্তি ও তীব্র যানজটের শঙ্কা 

লম্বা ছুটি থাকায় গত দুই বছরের মতো মহাসড়কে স্বস্তির ঈদযাত্রা আশা করা হলেও রাজধানী ঢাকা থেকে বেরোনোর পথে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। শেষ কর্মদিবসে যাত্রীর ঢল নামলে আগের দুই বছরের মতো এবারও নগর ছাড়তে তীব্র যানজটে ভুগতে হতে পারে। ৯ এপ্রিল ছুটি না থাকলে মহাসড়কের অবস্থা যতই ভালো থাকুক, একসঙ্গে ঘরমুখো মানুষের ঢলে ঈদের আগের দিন গাড়ির জটে যন্ত্রণার যাত্রা হতে পারে।

0 10

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) মহাসড়কের ১৫৫ স্থানকে যানজটপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি নামের বেসরকারি সংস্থার ভাষ্যানুযায়ী, যানজট হতে পারে ৭১৪ স্পটে।

দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ করা পদ্মা সেতু এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে নামে পরিচিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কে যাওয়ার বিকল্প পথ না থাকায় এবারও ঢাকা ছাড়তে যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদে যানজটে পড়তে হবে। রাজধানীর অন্য দুই প্রবেশপথ গাবতলীতে সেতু এবং টঙ্গীতে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) নির্মাণকাজও হতে পারে ভোগান্তির কারণ।

সরেজমিন এবং প্রতিনিধিদের তথ্যানুযায়ী ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের পথে ভোগান্তি হতে পারে গাবতলী থেকে বেরোতেই। গাবতলীতে আট লেনের সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। সাভার পেরিয়ে চন্দ্রা এবং যমুনার বঙ্গবন্ধু সেতুর আগে এলেঙ্গায় গাড়ির চাপ বাড়লে গত দু’বারের মতো এবারও যানজটে নাকাল হবে যাত্রীরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভোগাতে পারে সায়েদাবাদ ও কাঁচপুরের যানজট। নারায়ণগঞ্জে মহাসড়কের দু’পাশে কলকারখানা এবং ঘনবসতির কারণে কাঁচপুর থেকে মেঘনা পর্যন্ত যানজট কিংবা গাড়ির গতি ধীর হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। মেঘনা ও গোমতীর টোলপ্লাজাতেও যানজট হতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার পথে ভোগান্তির কারণ হতে পারে হানিফ ফ্লাইওভার। এই ফ্লাইওভার এবং নিচের রাস্তা দিয়ে পোস্তগোলা সেতু হয়ে পদ্মা সেতুতে যায় যানবাহন। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের চার জেলার পথে যানজটের ভয় দেখাচ্ছে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ব্যস্ততম সড়ক। সাতটি ফ্লাইওভার এবং ওভারপাস চালুতে যানজট কিছুটা কমলেও ভোগান্তিমুক্ত ঈদযাত্রার আশা ক্ষীণ।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১১ এপ্রিল ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। প্রতিবছর ২৮ রমজান অফিস শেষে ঈদের ছুটি শুরু হয়। এ হিসাবে এবার ৮ এপ্রিল অফিস শেষে ছুটি শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী এ বছর ২৯ রমজান তথা ৯ এপ্রিল অফিস-আদালত খোলা।

আগামী ৫ ও ৬ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি। ৭ এপ্রিল শবেকদরের ছুটি। বহু বছর ধরে চলে আসা রীতি অনুযায়ী, ২৯ রমজানে ছুটি থাকলে ঈদের আগে মাত্র এক দিন ৮ এপ্রিল অফিস খোলা থাকত। অর্থাৎ ঢাকা ছাড়ার জন্য ঈদের আগে ৫ দিন সময় পাওয়া যেত। সে ক্ষেত্রে যাত্রীরা ধাপে ধাপে নগর ছাড়তেন। গত দুই বছর ঈদুল ফিতরের আগে চার দিন এবং পাঁচ দিন করে ছুটি ছিল। ফলে ঈদযাত্রা ছিল স্বস্তির। ঈদযাত্রা যানজটমুক্ত রাখতে সরকার গত বছর এক দিন বাড়তি ছুটিও দিয়েছিল।

তবে এবারের ঈদের ছুটির আগে দুই দিন ৮ এবং ৯ এপ্রিল অফিস খোলা থাকায় যাত্রীর ঢল নামবে ৯ এপ্রিল রাত থেকে। ফলে ঈদের আগের দিন সড়কে দীর্ঘ যানজটের শঙ্কা রয়েছে। এ বিবেচনায় শুধু ৯ এপ্রিল নয়, ৮ এপ্রিলও ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তবে সড়ক পরিবহন সচিব  বলেছেন, ছুটি সরকারের এখতিয়ার।

তবে সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীর দাবি, এবারের ঈদযাত্রা সবচেয়ে স্বস্তির হবে। তিনি বলেন, যেখানে যেখানে যানজটের শঙ্কা রয়েছে, সেখানে কী ব্যবস্থা নিতে হবে নির্ধারণে কাজ করা হয়েছে। হানিফ ফ্লাইওভার, সায়েদাবাদ, যাত্রীবাড়ীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ঈদের আগে প্রতিটি সড়ক সচল থাকবে।

প্রত্যেক ঈদের আগের দু’দিনে গাজীপুরের টঙ্গী, চন্দ্রা এবং নারায়ণগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘ যানজট হয় স্থানীয় কলকারখানা ছুটির পর। খরচ কমাতে শ্রমিকরা কয়েকজন মিলে সাধারণত বাস এবং পণ্যবাহী যান ভাড়া করে বাড়ি যান। এসব যানবাহন সড়কে নামার পর তীব্র যানজট দেখা দেয়।

এ অবস্থা এড়াতে গতকাল বুধবার পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজেএমইএ, বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে সচিবালয়ে। সড়ক পরিবহন সচিব জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে, তিন ধাপে কলকারখানা ছুটি হবে। প্রথম ধাপে ২০ শতাংশ, পরের ধাপে ৬০ শতাংশ এবং পরবর্তী ধাপে ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ছুটি হবে।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ঈদের সময় মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ যানবাহন বিকল হওয়া। বহু লক্কড়ঝক্কড় বাস ঈদের সময় ঢাকায় আসে। ঢাকার লোকাল বাসও রিজার্ভ করে শ্রমিকদের নিয়ে বিভিন্ন জেলায় যায়। এবার এসব আটকানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সওজের মহাসড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ (এইচডিএম) বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারাদেশে ২ হাজার ৭৭ কিলোমিটার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা সড়ক ভাঙাচোরা, যা দেশের সড়ক-মহাসড়কের ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৪৫৭ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ, চলাচলের অযোগ্য। ৭৬ শতাংশ মহাসড়কের অবস্থা ভালো। খারাপ সড়কের মেরামত বৃষ্টির কারণে টেকসই হবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলেও এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত রাস্তাটি দুই লেনের। এখানে যানজটের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমে হাটিকুমরুল থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলছে, সেখানেও যানজট মোকাবিলা চ্যালেঞ্জের।

সড়ক পরিবহন সচিব জানিয়েছেন, এলেঙ্গায় যানজট নিরসনে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে ঢাকামুখো গাড়ি ডাইভার্ট করা হবে। হাটিকুমরুলের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবার সবাইকে নিয়ে সভা করা হবে।

গাড়ির চাপ বাড়লে প্রায় প্রত্যেক শুক্র ও শনিবার যানজট হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। ঢাকা-নোয়াখালী পথের হিমাচল পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফতাব উদ্দিন মাসুদ বলেন, ঈদে গাড়ি ও মানুষের চাপ আরও বাড়বে। তাই যানজটের শঙ্কাও বেশি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে ১ কোটি, গাজীপুর থেকে ৪০ লাখ, নারায়ণগঞ্জ থেকে ১২ লাখসহ ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করতে পারেন। এসব যাত্রীকে ঈদের আগের চার দিনে বাস-মিনিবাসে ৩০ লাখ, ট্রেনে ৪ লাখ, প্রাইভেটকার, জিপ ও মাইক্রোবাসে ৩৫ লাখ, মোটরসাইকেলে ১২ লাখ, লঞ্চে ৬০ লাখ, উড়োজাহাজে প্রায় ১ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারেন। গণপরিবহনে সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে এবারের ঈদযাত্রায় হযবরল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৩০ রোজা হলে ঈদের আগে মাত্র এক দিন ছুটি থাকবে। এতে ওই দিনে সব যাত্রীর ঢল নেমে ৯ ও ১০ এপ্রিল প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ লাখ যাত্রী রাজধানী ছাড়বেন। অথচ আমাদের গণপরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে ২২ থেকে ২৫ লাখ পরিবহনের।

সর্বশেষ খবর এবং আপডেটের জন্য আমাদের সাবস্ক্রাইব করুন। আপনি যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারবেন।

Loading...

আমরা কুকি ব্যবহার করি যাতে অনলাইনে আপনার বিচরণ স্বচ্ছন্দ হয়। সবগুলো কুকি ব্যবহারের জন্য আপনি সম্মতি দিচ্ছেন কিনা জানান। হ্যাঁ, আমি সম্মতি দিচ্ছি। বিস্তারিত