সব খবর সবার আগে
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে মঞ্চস্থ হলো “আমার সাধ না মিটিলো’

0 242

রাজধানীতে দেখা গেল এক বঙ্গবন্ধুকে। সে বঙ্গবন্ধুর বুকে ১৮টি বুলেটবিদ্ধ। তবুও বিশ্বাস কোনো বাঙালি তাকে আঘাত করতে পারে না। কেউ তাকে কিম্বা পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করেনি। ঘাতকদের তিনি আপ্যায়িত করতে চাইছেন। আবার তিনি আক্ষেপ করছেন, কেন বিশ্বাস ঘাতকতা। কেন এতো লোভ, কেন পরশ্রীকতরতা। যারা আপন ভেবে কাছে থেকেছে, তারাই এতো নিষ্ঠুর, নির্মম হয়ে উঠলো। যে বঙ্গবন্ধুর কথা বলছি, তিনি নাট্য মঞ্চের বঙ্গবন্ধু।

২৩ আগস্ট শামীম সাগরের রচনা ও নির্দেশনায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হলো নাটক “আমার সাধ না মিটিলো’। জেলা শিল্পকলা একাডেমি কুষ্টিয়া এবং বোধন থিয়েটার কুষ্টিয়ার যৌথ প্রযোজনা এটি।

“আমার সাধ না মিটিলো’ নাটক একটি সাহসী পদক্ষেপ। পুরোটাই আনটোল্ড স্টোরি। যা মঞ্চে একেবারেই নতুন। নাট্যমঞ্চে এমন সাহসী উচ্চারণ আগে কখনও হয়নি বলেই প্রদর্শনী দেখে মন্তব্য করলেন দর্শকরা। এ নাটকে দেশের অভ্যন্তরে বেঈমান, চক্রান্তকারী, চাটুকার এবং সুবিধাভোগীদের উচ্চাকাঙ্খা এবং দেশী-বিদেশী চক্র কীভাবে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। দিন তারিখ এবং চক্রান্তকারী ব্যক্তি ও দেশের নাম উল্লেখ করে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে কারা বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

প্রখ্যাত নাট্যজন আমিরুল ইসলাম হয়ে উঠেছিলেন সত্যিকারের বঙ্গবন্ধু। তার অভিনয় এবং বঙ্গবন্ধুর সাজে হয়ে ওঠেন ইতিহাসের বঙ্গবন্ধু, যার তেজদীপ্ত উচ্চারণ এবং আদর্শ মৃত বঙ্গবন্ধুর চেয়েও যেন আরো শক্তিশালী। মঞ্চে এই বঙ্গবন্ধুকে সঙ্গ দিয়ে গেছেন বাল্যবন্ধুর চরিত্রে নাট্যজন শহীদুর রহমান রবি।সেইসঙ্গে নাটকের শুরু থেকে ইতিহাসের আদ্যপান্ত টেনে নিয়ে গেছেন নাট্যজন আসলাম আলী। নাট্যজন শাহীন সরকার সেই কুখ্যাত মেজরের চরিত্রে অভিনয় করেন। যিনি হেলিকপ্টরে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মরদেহ নিয়ে যান। এখান থেকেই ঘটনার শুরু। বঙ্গবন্ধুর শৈশব, কৈশরের বন্ধুদের সঙ্গে স্মৃতিচারণ। নাটকে অভিনয় আর ফসলের ঘ্রাণ তাকে যেভাবে আপ্লুত করেছে, তাই নিয়ে নাটক হয়ে ওঠে ঘটনা বহুল। নানা প্রশ্ন আর সব ঘাতক ও ষড়যন্ত্রকারীদের মুখেই উঠে এসেছে তাদের নীলনকশা। সবশেষে বঙ্গবন্ধুর দাফন হলেও কোটি প্রাণে জেগে ওঠে বঙ্গবন্ধু আর জয় বাংলা। নাটকটিতে আরো অভিনয় করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি কুষ্টিয়া এবং বোধন থিয়েটার কুষ্টিয়ার প্রায় ৩০ জন নাট্যকর্মী।

জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে বসে নাটকটি দেখেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। প্রদর্শনী শেষে “আমার সাধ না মিটিলো’ নাটকের সাহসী উচ্চারণ নিয়েও তিনি কথা বলেন। সেইসঙ্গে নাট্যকার ও নির্দেশক শামীম সাগর এবং সকল অভিনেতাদের ভুয়সী প্রশংসা করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে এ ধরণের সাহসী উচ্চারণ ছড়িয়ে দিতে এই নাটকের প্রদর্শনী বাড়ানো প্রয়োজন এবং গণমাধ্যম কর্মীদের এই নাটকগুলো নিয়ে রিপোর্টিং করতে বাধা না দিয়ে সহযোগিতা করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন অনেকে। “আমার সাধ না মিটিলো’ নাটক চলাকালে গণমাধ্যম কর্মীদের নাটকটির ছবি এবং ভিডিও ধারণে শিল্পকলার কর্মীরা বাধা দেন। এই নাটকের ছবি এবং ভিডিও ধারণ করতে কর্তৃপক্ষ নিষেধ করেছেন এবং সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও জানান জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনের কর্মীরা।

সর্বশেষ খবর এবং আপডেটের জন্য আমাদের সাবস্ক্রাইব করুন। আপনি যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারবেন।

Loading...

আমরা কুকি ব্যবহার করি যাতে অনলাইনে আপনার বিচরণ স্বচ্ছন্দ হয়। সবগুলো কুকি ব্যবহারের জন্য আপনি সম্মতি দিচ্ছেন কিনা জানান। হ্যাঁ, আমি সম্মতি দিচ্ছি। বিস্তারিত