সব খবর সবার আগে
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অসুখ-বিসুখ

শীতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ৫ সহস্রাধিক মানুষ

শীতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ৫ সহস্রাধিক মানুষ। শীত পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় এক সপ্তাহ ধরে দেশে মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। রোববার কোনো কোনো অঞ্চলে তা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে রূপ নেয়। পাশাপাশি এ দিন চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও রেকর্ড করা হয়।

0 103

খুলনা বিভাগের যশোর এবং চুয়াডাঙ্গায় ছিল এই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, যা ব্যারোমিটারে মাপা হয় ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও কয়েক দিন পর রোববার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সূর্য তুলনামূলক বেশি সময়ের জন্য কিরণ দিয়েছে। আকাশে মেঘ কেটে যাওয়ায় আলোর প্রখরতাও ছিল বেশি। এতে দিনের আলোর উষ্ণতা উপভোগ করতে পেরেছে মানুষ।

রোদের কারণে দুপুরের দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশা কেটে যায়। বিশেষ করে শহরাঞ্চল এই সুবিধা পায় বেশি। কিন্তু সূর্যের আলোর তেজ কমতেই কুয়াশার আস্তর পড়তে শুরু করে, যা পরে ধীরে ধীরে হালকা মাঝারি ধরনের ছিল। আর সন্ধ্যার পর এর ঘনত্ব আরও বাড়তে থাকে। ফলে দৃষ্টিসীমা কমে আসতে থাকে। কুয়াশার কারণে বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে শনিবার রাত ১০টা থেকে রোববার সকার ৮টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। শীতের কারণে শীতজনিত রোগবালাই বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববারের হিসাব অনুযায়ীই ৩১৫৬ কোল্ড ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি বলে জানা গেছে। আর শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৪ জন। তাদের মধ্যে ২ জন ময়মনসিংহ, ১ জন খাগড়াছড়ি ও ১ জন ভোলার। তাদের সবাই শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত ছিল।

শৈত্যপ্রবাহের ব্যাপ্তি রোববার আরও বেড়ে যায়। আগের দিন ১১টি জেলায় ছিল মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ। কিন্তু রোববার উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগ রংপুর ও রাজশাহী বা এই দুই বিভাগের ১৬ জেলা চলছিল শৈত্যপ্রবাহ। পাশাপাশি দেশের মধ্যাঞ্চলের জেলা টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর, সাতক্ষীরা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, সোমবার (আজ) থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি লাভ করতে পারে। একটা পর্যায়ে হয়তো শৈত্যপ্রবাহ চলে যাবে, কিন্তু মৌসুমের স্বাভাবিক শীত যাবে না। এরপর আবার মাঘের শুরুতে ফের শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানায়, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে যে লঘুচাপ অবস্থান করছিল, সেটি এখন সক্রিয় আছে। শুধু তাই নয়, এর বর্ধিতাংশ রোববার উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। উপমহাদেশের উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম এলাকায় অবস্থান করছে। ফলে এর ফলে আকাশ অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। তবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। আর সূর্যের আলোর কারণে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেলেও রাতে যে তাপমাত্রা আছে তা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অর্থাৎ আগামী ৭২ ঘণ্টা রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত এমনকি সামান্য হ্রাস পেতে পারে। তাই রাতে বাড়তি শীতল অনুভূতি থাকছেই।

সাধারণত তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে এবং ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। এছাড়া তাপমাত্রা ৮ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তা মাঝারি আকারের এবং ৬-এর নিচে কিন্তু ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত নামলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহে পরিণত হয়। আর ৪ ডিগ্রির নিচে নামলে তা অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নেয়।

সর্বশেষ খবর এবং আপডেটের জন্য আমাদের সাবস্ক্রাইব করুন। আপনি যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারবেন।

Loading...

আমরা কুকি ব্যবহার করি যাতে অনলাইনে আপনার বিচরণ স্বচ্ছন্দ হয়। সবগুলো কুকি ব্যবহারের জন্য আপনি সম্মতি দিচ্ছেন কিনা জানান। হ্যাঁ, আমি সম্মতি দিচ্ছি। বিস্তারিত